- লিখছেন ভাঁওয়ার মেঘবংশী

[আম্বেদকর জয়ন্তী উপলক্ষে, পিইউসিএল বুলেটিনে এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল। এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে তোলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ শাসিত ফ্যাসিবাদী ভারতরাষ্ট্রে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার নীচের স্তরে থাকা ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের জন্য সমতা ও মর্যাদার জীবন নিশ্চিত করার প্রশ্নটি। বিশিষ্ট লেখক এবং মানবাধিকার-কর্মী ভাঁওয়ার মেঘবংশী দলিত সম্প্রদায়ের জন্য দিকনির্দেশকারী আলোচনা করে এই সম্পাদকীয়টি লিখেছিলেন, যাতে ভারতে হিন্দুত্ববাদী-কর্পোরেট শাসন বিরোধী দলিত জনতার লড়াইয়ের দর্শনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। মূল নিবন্ধটি হিন্দি ভাষায় রচিত হয়েছিল, এর লেখক- অনুমোদিত বাংলা অনুবাদ জ্ঞানগঞ্জের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের সামাজিক আন্দোলনের কর্মী জগতী বাগচী। তাকে ও লেখককে আমরা অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।]
ডঃ বি.আর. আম্বেদকর তাঁর অনুসারীদের স্পষ্টভাবে বলেছিলেন পুঁজিবাদ এবং ব্রাহ্মণ্যবাদ উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করতে। তিনি তাদের সতর্কও করে দিয়েছিলেন যে তারা যেন যে কোনও মূল্যে হিন্দু রাজত্বকে কখনও মেনে না নেন। তবুও, আমরা দলিতদের হিন্দু জাতি গঠনের উন্মাদনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখছি। হিন্দুত্বের বর্তমান রাজনৈতিক প্রকল্প তাদের কোনও উপকারে আসবে না জেনেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলিত এই পরিসরগুলির মধ্যে তাদের পরিচয় খুঁজতে আরএসএস এবং বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
হিন্দু রাষ্ট্রের মূল আদর্শ হল ভারতকে একটি হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যা গণতান্ত্রিক সংবিধান দ্বারা নয়, বরং পৌরাণিক ধর্মগ্রন্থ দ্বারা পরিচালিত হবে-যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার বা ভ্রাতৃত্বের কোনও স্থান নেই। এই অবস্থায়, প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক: কেন দলিত সম্প্রদায়- যারা ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু সমাজের মধ্যে প্রান্তিক এই ধরণের আত্মঘাতী ধারণার সাথে নিজেদের মেলাবে।
এই প্রশ্নের উত্তর জটিল। দলিতদের মধ্যে থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উঠে আসা আরএসএস এবং বিজেপির মতো ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলির জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। শিক্ষিত, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল, শহুরে দলিতদের একটি অংশ এখন আরএসএস এবং বিজেপির সাথে নিজেদেরকে মেলানোতে কোনও ক্ষতি দেখতে পাচ্ছে না।
এরকম একটি সংকটময় সময়ে দলিত বহুজন রাজনীতির কৌশল এবং সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দলগুলির সঙ্গে নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় এবং অবাঞ্ছিত লড়াই করার অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার পরিবর্তে। এ অবস্থায়, বাবা সাহেব আম্বেদকরের নামে করা বা বলা যেকোনো কিছু নিয়ে দলিত সম্প্রদায়ের ভেতর থেকে প্রশ্ন উঠবে এটাই স্বাভাবিক, এবং এই প্রশ্নগুলি ওঠানো ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
এটা জানাই আছে যে হিন্দু চতুর্বর্ণ ব্যবস্থা দলিতদের শূদ্রদেরও নীচে, পঞ্চম বর্ণ বা “অস্পৃশ্য” হিসেবে রাখে। মনুস্মৃতির মতো গ্রন্থগুলি এই বৈষম্যকে ধর্মীয় বৈধতা দিয়েছে, যার ফলে শত শত বছর ধরে সামাজিক বর্জন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং দলিত সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অবমাননা ঘটেছে। তা সত্ত্বেও, হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি করে যে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দলিত সহ সকল হিন্দুকে এক করবে। হিন্দুত্ববাদী কাঠামোর মধ্যে ঐক্যের এই প্রতিশ্রুতি কিছু দলিতদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব বলে মনে হয়, কারণ এর ফলে তারা হিন্দু জাতির মধ্যে একটি সম্মানজনক মর্যাদা পাওয়ার আশা করে। কিন্তু এই স্বপ্ন কি কখনও বাস্তবে পরিণত হতে পারে?
উদাহরণস্বরূপ, আরএসএস এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলি সামাজিক সম্প্রীতির নামে বিভিন্ন লোকদেখানো কর্মসূচি আয়োজন করে, যেখানে মন্দিরে ঢোকা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং গণভোজের মতো প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে দলিতদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এগুলো শুধুই প্রতীকবাদ, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়, কারণ হিন্দুত্ববাদীরা দলিতদের চায় শুধুই তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা, দাঙ্গা সৃষ্টি করা এবং ঘৃণা ছড়ানো। অন্যথায়, বর্ণ বৈষম্য, শোষণ, অবিচার এবং নৃশংসতার গুরুতর ক্ষেত্রেও, হিন্দু সংগঠনগুলি কখনও দলিতদের পক্ষে দাঁড়ায় না। তারা দলিতদের জন্য প্রণীত সুরক্ষার সাংবিধানিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। তারা সংরক্ষণের মতো ইতিবাচক নীতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে। তবুও, দলিতদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে হিন্দুত্বের প্রতি বেড়ে চলা আকর্ষণ বেশ উদ্বেগজনক।
হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণাকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক দল বিজেপি, গত কয়েক দশকে আরএসএস এর তৈরি কৌশলে দলিত সম্প্রদায়কে তাদের ভোট ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এই কৌশলটি বিশেষভাবে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে কার্যকর হয়েছে, যেখানে দলিত জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিজেপি কিছু দলিত উপজাতি এবং রামনাথ কোবিন্দ, অর্জুন মেঘওয়ালদের মত দলিত নেতাদের প্রচার করেছে, যদিও তা কেবল লোক দেখানোর জন্যই। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধানসভা এবং সংসদ পর্যন্ত এই ধরণের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর ফলে দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক শ্রেণীর জন্ম হয়েছে, যারা ডঃ আম্বেদকরের নয়, বরং সাভারকর-গোলওয়ালকরের ভাষায় কথা বলে।
উপরন্তু, দলিতদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে উজ্জ্বলা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, মুদ্রা ঋণ, বিনামূল্যে রেশন এবং পেনশনের মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি তাদের উপকার করেছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলিও যুক্তি দেয় যে একটি হিন্দু রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের (মুসলিম এবং খ্রিস্টান) তথাকথিত “তোষণ” বন্ধ করবে এবং দলিত সহ সকল হিন্দুর মধ্যে আরও ভালভাবে সম্পদ বন্টন নিশ্চিত করবে। কিছু দলিত এই ভ্রান্ত যুক্তিটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন, বিশ্বাস করেন যে এটি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে।
প্রতীকী রাজনীতির কারণে, ডঃ আম্বেদকরের সাথে সম্পর্ক আছে এমন সব জায়গায় বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণও এই ভাবনার একটি অংশ যে আম্বেদকরকে বই থেকে সরিয়ে সর্বত্র একটি প্রাণহীন মূর্তি হিসাবে স্থাপন কর, তাঁর সাথে সম্পর্কিত স্থানগুলি, তাঁর মূর্তিগুলি এত বড় কর যাতে বাবা সাহেবের চিন্তাভাবনা তুচ্ছ হয়ে যায়, মানুষ আম্বেদকর পড়া বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর পূজা শুরু করে। আম্বেদকরের চিন্তা হিন্দুত্বের চিন্তাভাবনার জন্য ভয়ের ব্যাপার, আম্বেদকরের মূর্তি তাদের জন্য কোনও সমস্যা তৈরি করে না। এর ফলস্বরূপ, আরএসএস আর বিজেপি ডঃ আম্বেদকরকে সম্পূর্ণরূপে গিলে ফেলা এবং হজম করার চেষ্টা করছে। যে ডঃ আম্বেদকর তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিটি পদক্ষেপে আরএসএস-এর বিরোধিতা করেছিলেন, সেই ডঃ আম্বেদকরকে এখন তাদের মতাদর্শের অংশ হিসেবে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এটা খুবই অদ্ভুত পরিহাস যে, যে হিন্দু ধর্মে হতাশ হয়ে ডঃ আম্বেদকর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং এমনকি হিন্দুত্বকে গণতন্ত্রের জন্য বিপদ বলে ঘোষণা করেছিলেন, সেই হিন্দু সংগঠনগুলি তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করছে এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করছে। আজ, আম্বেদকরকে হিন্দু রাষ্ট্রের সমর্থক এবং ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ডঃ আম্বেদকরের লেখা এবং বক্তৃতার কিছু কিছু অংশ সেগুলির প্রসঙ্গের বাইরে কেটে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে তিনি মুসলিম-বিরোধী বলে মনে হন। তাঁর বই “থটস অন পাকিস্তান”-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, হিন্দুত্ববাদী সমর্থকরা বামপন্থী এবং ইসলামের বিরুদ্ধে বিষ উগরে দিচ্ছে। দেখানো হচ্ছে যে ডঃ আম্বেদকর হিন্দু রাষ্ট্রের সমর্থক এবং আরএসএস ও সাভারকরের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। প্রতিদিনই, আরএসএসের মিথ্যার কারখানা থেকে মিথ্যাকে সত্য হিসেবে পরিবেশন করা হচ্ছে। এমন গল্প তৈরি করা হয়েছে যে আম্বেদকর আরএসএস শাখায় গিয়ে আরএসএসের প্রশংসা করেছেন এবং আরএসএস প্রচারক দত্তোপন্ত ঠেঙ্গাদি তার নির্বাচনে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। আরএসএসের মিথ্যাচার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা বলতে শুরু করেছে যে ডঃ আম্বেদকর তেরঙ্গার পরিবর্তে জাতীয় পতাকাকে গেরুয়া এবং সংস্কৃতকে জাতীয় ভাষা করতে চেয়েছিলেন, যেখানে ডঃ আম্বেদকরের লেখা এবং বক্তৃতায় এই ধরনের কথা কোথাও পাওয়া যায় না। কিন্তু যখন একই মিথ্যা বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, তখন তা সত্যের মতো শোনাতে শুরু করে। আরএসএস এই ধরনের মিথ্যা তৈরিতে নিরলস।
এখন আসুন আজকের কথায়, যখন দলিত রাজনীতিকে এক প্রান্তে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। হিন্দু রাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে দলিতরা প্রায় পালিয়ে গেছে; তারা হয় সেইসব দলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করছে যাদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার সাথে কোনও সম্পর্ক নেই অথবা দলিত দলগুলি নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে ব্যস্ত। দলিত সম্প্রদায় রাজনীতিতে তাদের দলগুলির ভূমিকা সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখছে এবং রাজনৈতিক দলগুলি যা করে তা ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করছে। দলিত সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নেতাদের উপর আস্থা হারাচ্ছে, এবং দলিত রাজনৈতিক দলগুলি ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। দলিত নেতাদের নতুন প্রজন্ম সাম্প্রদায়িক দলগুলির দিকে ঝুঁকছে, এবং এটি ডঃ আম্বেদকরের রাজনৈতিক সমতার স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং তাই উদ্বেগের বিষয়। আমরা যদি বিজেপির গত দুটি মেয়াদের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে যে তারা কেবল তপশিলি জাতি ও উপজাতি নিপীড়ন প্রতিরোধ আইনকে দুর্বল করেছে। বেসরকারীকরণ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং পার্শ্বীয় প্রবেশের মাধ্যমে যে সংরক্ষণ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে তা কারও কাছে গোপন নয়।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য এবং অবমাননা এতটাই বেড়েছে যে দলিত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রকাশ্যে ফিরে এসেছে, মনু স্মৃতি পড়ানো হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যজ্ঞ করা হচ্ছে। জাতপাত নির্মূল করার পরিবর্তে আবার এগুলি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান এতটাই বেড়েছে যে মৌলিক অধিকারের প্রশ্নগুলি এর নীচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। এমনকি বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনাও এখন মানুষকে কারাগারে পাঠাচ্ছে। মহাকুম্ভ আয়োজনের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখা ও এটিকে মহিমান্বিত করা এবং ধর্ষক সাধুবাবাদের জনসাধারণের সম্মান জানানো সাংবিধানিক নৈতিকতার অবনতি।
আজ সংবিধানের পরিবর্তে, হিন্দু জাতির ঋষি সংবিধানের খসড়া আলোচনার বিষয়। মনুস্মৃতির যুগ ফিরে আসছে বলে মনে হচ্ছে। ডঃ আম্বেদকর ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং হিন্দুরাজ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজ, তাঁর অনুসারীরা আসল বিপদ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং হিন্দু রাষ্ট্রের আত্মঘাতী প্রকল্পের অংশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দলিতদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক হবে।
আজ, দলিতদের ঘৃণা ছড়াতে, হিংসায় উস্কানি দিতে এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানদের হত্যা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু শীঘ্রই, তারা সমস্ত অধিকার হারাবে এবং এই হিন্দু রাষ্ট্রে কেবল দাসে পরিণত হবে।
অবাক করার মতো বিষয় হল যে হিন্দুধর্মের সেই অসম ধর্মীয় ব্যবস্থা যা দলিতদের মনুষ্যত্ব অস্বীকার করেছিল, অমানবিক বর্ণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, দলিতদের অস্পৃশ্য করে তুলেছিল এবং দাসের চেয়েও খারাপ অবস্থায় ফেলেছিল, এখন সেই ব্যবস্থার জন্যই দলিত এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণী তৎপর। হিন্দুজাতির জন্য হাত নোংরা করা! এটা কি আত্মহত্যার চেয়ে কম কিছু?
দলিতদের তাদের বন্ধু কারা তা চিনতে হবে এবং সকল নিপীড়িত সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে এই সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সময় এসেছে। অন্যথায় সকলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।
[ভাঁওয়ার মেঘবংশী একজন বিখ্যাত লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী। তিনি পিইউসিএল রাজস্থানের সভাপতি ও ‘I couldn’t be a hindu’ গ্রন্থের রচয়িতা]
